ঢাকা , শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬ , ২৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কুড়িগ্রামের উলিপুর সাব-রেজিস্ট্রার অফিস, ভোগান্তির আরেক নাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৪-১১ ০১:৩৪:২৫
কুড়িগ্রামের উলিপুর সাব-রেজিস্ট্রার অফিস, ভোগান্তির আরেক নাম কুড়িগ্রামের উলিপুর সাব-রেজিস্ট্রার অফিস, ভোগান্তির আরেক নাম
 
আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-
 
কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার অফিস এখন জনভোগান্তির আরেক নাম। দেড় দশক বছর ধরে এখানে কোনো নিয়মিত সাব-রেজিস্ট্রার নেই। বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দিয়ে মাসে মাত্র ৮ দিন দালিলিক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। সাত দিনের কাজ এক দিনে শেষ করতে গিয়ে রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে সেবাগ্রহীতাদের। এতে বিশেষ করে নারী ক্রেতা-বিক্রেতারা শৌচাগার ও নিরাপদ বসার স্থানের অভাবে প্রচণ্ড বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন।
 
১৫ বছন ধরে উলিপুর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে ভারপ্রাপ্ত দিয়েই চলছে কার্যক্রম। এ সময়ের মধ্যে ৬ জন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে নাগেশ্বরী উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার মোঃ ওয়াহেদুল ইসলাম অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। সপ্তাহে কেবল সোম ও মঙ্গলবার দলিল সম্পাদনের কাজ হয়। দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষ অপেক্ষা করেও অনেক সময় কাজ শেষ করতে পারেন না। 
 
দলিল লেখক মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘নিয়মিত সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় সাত দিনের কাজ দুই দিনে করতে হয়। চাকরিজীবীরা জমি বেচাকেনা বা প্রয়োজনীয় কাজ সারতে ছুটি নিয়ে আসেন। একই অবস্থা অন্য পেশাজীবীদের ক্ষেত্রেও। নির্ধারিত দিনে কোনো একটা কাগজ সংকট বা অন্য কোনো সমস্যা হলে ওই সপ্তাহে রেজিস্ট্রি হয় না। পরের সপ্তাহের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। এতে যেমন আমাদের রোজগারও হয় না, তেমনি সেবাপ্রত্যাশীদেরও ভোগান্তি পোহাতে হয়।’
 
হাতিয়া চিড়া খাওয়ার পাড় গ্রামের মোছাঃ উম্মে হাবিবা বেগম জানান, ছেলের চাকরির টাকার প্রয়োজনে জমি বিক্রি করেও সময়মতো রেজিস্ট্রি করতে না পেরে তাকে ১৫ হাজার টাকা সুদ গুনতে হয়েছে। 
 
উলিপুর উপজেলার এ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সেবা, দ‌লিল রে‌জি‌স্ট্রি, দ‌লিল তল্লাশি ও নকল ক‌পি দেওয়ার কাজ করা হয়। কোনো মাসে ৮০০টি আবার কোনো মাসে ১৬০০ দলিল সম্পাদন হয়। বছরে রাজস্ব আয় হয় ১৩ কো‌টি ৩৬ হাজার। অথচ এখানে নিয়মিত সাব-রেজিস্ট্রার থাকেন না। এতে এসব কাজে সমস্যা হয়। ব্যাংক ঋণের ক্ষেত্রেও বড় বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। পূবালী ব্যাংক উলিপুর শাখার ব্যবস্থাপক মো. আশরাফুল হক জানান, রেজিস্ট্রি কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ঋণগ্রহীতাদের সময়মতো টাকা দেওয়া সম্ভব হয় না, যা ব্যাংকের ব্যবসায়িক ক্ষতি ও সুনাম নষ্ট করছে। 
 
মেডিকেল সহকারী মোঃ মাহফুজার রহমান মিলন জানান, রেজিস্ট্রিতে দেরি হওয়ায় তাঁকে রডসহ নির্মাণসামগ্রী কিনতে টনে ১৫ হাজার টাকা বেশি গুনতে হয়েছে। 
 
১৯৭৮ সালে নির্মিত অফিস ভবনটি এখন ব্যবহার অনুপযোগী। ২০১৬ সালে এটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। রেকর্ড রুম, নকল নবিশের কক্ষের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে এবং বৃষ্টি হলেই রেকর্ড কক্ষের বালাম বই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অফিস সহকারী মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা কাজ করছেন। দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. বাবলু পাঠান বলেন, ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার এই বিশাল এলাকায় প্রতিদিন ২০০-২৫০টি দলিল সম্পাদন হয়। অথচ ১৫ বছর ধরে চেষ্টা করেও একজন স্থায়ী কর্মকর্তা আনা সম্ভব হয়নি। 
এদিকে জনবল সংকটে দপ্তর সামলাতে হিমশিম অবস্থা প্রশাসনের। বিষয়টি নিয়ে পাঁচবার লি‌খিতভাবে আইজিআর (ইন্সপেক্টর জেনারেল অব রে‌জিস্ট্রেশন) অ‌ফিসে চি‌ঠি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রতি মাসে প্রতিবেদন দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। 
 
ভারপ্রাপ্ত সাব-রেজিস্ট্রার মোঃ ওয়াহেদুল ইসলাম জানান, তাঁকে দুটি উপজেলা সামলাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। জেলা সাব-রেজিস্ট্রার রুহুল কুদ্দুস জানান, ৯টি উপজেলার বিপরীতে মাত্র ৪ জন কর্মকর্তা কর্মরত আছেন। ফলে একজন কর্মকর্তাকে ২-৩টি উপজেলার দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে কর্মকর্তা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হলেও কোনো সমাধান মেলেনি। 

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ